গত শনিবার জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে ছড়ানো একটি নারী বিদ্বেষী পোস্ট দেশের রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় সৃষ্টি করে। এ পোস্টকে কেন্দ্র করে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের মাঠে জামায়ত দল সমালোচনার মুখে পড়ে। পরে দলটি দাবি করে, আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়েছে এবং অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে। এই ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য মো. সিরাজুল ইসলাম রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় জিডি করেন। ঘটনার তদন্তের দায়িত্বে থাকা ডিবি এই জিডির ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে। একই সময়ে বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ার আলমকে রাজধানীর রাজারবাগ এলাকা থেকে ডিবি আটক করে। তবে গ্রেফতারের প্রমাণাদি না থাকার কারণে ডিবি কর্তৃপক্ষের মধ্যেও মতবৈষম্য দেখা দেয়। সিনিয়র কর্মকর্তারা তদন্তের অগ্রগতিতে সন্তুষ্ট না হওয়ায় গ্রেফতারের নির্দেশ দেন, কিন্তু অধস্তন কর্মকর্তারা সুনির্দিষ্ট তথ্যের অভাবে গ্রেফতার দেখাতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে ডিবি প্রধান ও একজন যুগ্মকমিশনারের মধ্যে বাগবিতণ্ডা পর্যন্ত হয়, যা ডিবির অভ্যন্তরে বিভক্তির সৃষ্টি করেছে। ডিবির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, পুলিশ আগের কোনো ভুল-ত্রুটির পুনরাবৃত্তি করতে চায় না এবং সংস্থার প্রতি পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়া গ্রেফতার কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবে না। অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, বাগবিতণ্ডার খবর সত্য নয় এবং হাতিরঝিল থানায় দায়েরকৃত মামলায় মোহাম্মদ ছরওয়ার আলমকে গ্রেফতার দেখানো হবে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে তথ্য যাচাই-বাছাই ও তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে, যা আগামী দিনগুলোতে আরও তীক্ষ্ণভাবে নজরে থাকবে।