মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা ও তার সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রভাব নিয়ে সচিবালয়ে আয়োজিত এক কর্মশালায় শিক্ষা উপদেষ্টা ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে যে পরিবর্তন আনা হচ্ছে তা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা জরুরি এবং এ ক্ষেত্রে সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও দেশীয় পরিচয়কে উপেক্ষা করা যাবে না। ড. রফিকুল আবরার দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নের কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের অবদানকে সম্মান জানান এবং জানান, চলমান কার্যক্রমের মাধ্যমে একটি পরামর্শভিত্তিক কাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে যা ভবিষ্যতে সামাজিক শক্তি হিসেবে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, এই আলোচনা কোনো নির্দিষ্ট সরকারের পক্ষে বা বিপক্ষে নয়, বরং একটি সমন্বিত প্রক্রিয়ার অংশ। কর্মশালায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা রাশেদা কে. চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিনের গবেষণা ও বিশ্লেষণ থেকে শিক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতি ও মূল্যায়ন ব্যবস্থার সমস্যাগুলো স্পষ্ট হয়েছে। তবে এবার সমাধানের পথ ও দিকনির্দেশনাও এই প্রতিবেদনে ধরা পড়েছে। তিনি রাজনৈতিক সদিচ্ছার গুরুত্বও উল্লেখ করেন। ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমেদ বলেন, শিক্ষা নিয়ে এতদিন আলোচনা ছিল খণ্ডিত ও আংশিক, কিন্তু এবার বিষয়গুলো সুশৃঙ্খল ও সামগ্রিকভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। তিনি জানান, দেশের রাজনীতি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা এখনও শিক্ষা সংস্কারের জন্য অনুকূল নয়, তবে ভবিষ্যতে অনুকূল পরিবেশ তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র লেকচারার অনন্ত নীলিম খসড়া প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অংশগ্রহণকারীরা ছিলেন।