দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শুল্ক আরোপের ফলে রপ্তানি কমেছে, আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে প্রতিযোগিতা তীব্র হচ্ছে নতুন বাণিজ্য চুক্তির কারণে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ভারতের পোশাক রপ্তানিতে শুল্ক শূন্যে নেমে আসবে, যা বাংলাদেশের জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। বর্তমানে বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির অর্ধেকই ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে যায়; কিন্তু ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদা হারানোর পর ২০২৯ সালের পর থেকে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে না বাংলাদেশ। যদি নতুন কোনো চুক্তি না হয়, তাহলে ইউরোপীয় বাজারে প্রায় সাড়ে ১২ শতাংশ শুল্ক আরোপ হতে পারে, যা বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান দুর্বল করবে। এছাড়া, ইইউ-ভিয়েতনাম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির কারণে ২০২৭ সালের মধ্যে ভিয়েতনামের শুল্কও শূন্যে নেমে আসবে, যা আরও প্রতিযোগিতা বাড়াবে। বাংলাদেশের পোশাক খাতের উৎপাদনক্ষমতা গ্যাস সংকট, উন্নত অবকাঠামোর অভাব, উচ্চ সুদের হার এবং কারিগরি দক্ষ শ্রমিকের ঘাটতির কারণে ইতোমধ্যে কমে গেছে। বিজিএমইএ’র সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ইউরোপ আমাদের সর্ববৃহৎ বাজার এবং ভারতের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হলে তাদের সক্ষমতা অনেক বৃদ্ধি পাবে। ভারত কটনের ওপর ব্যাপক সাপোর্ট দেয়, যা তাদের বাজার বৃদ্ধি করবে এবং বাংলাদেশের বাজারে অংশ কমবে। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান দ্রুত ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে নতুন কোনো বাণিজ্য চুক্তি বা জিএসপি প্লাস সুবিধার জন্য আলোচনায় বসার। পোশাক খাতের টেকসই উন্নয়নের জন্য এখনই প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ ও কৌশলগত পরিকল্পনা, যাতে বাংলাদেশের রপ্তানি বাজারের অবস্থান শক্তিশালী রাখা যায়।