ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মাঝে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় নতুন আলোচনার সম্ভাবনা বর্তমান ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনার উত্তাপে নতুন করে আলোচনা শুরু করার সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে, যেখানে মধ্যস্থতাকারীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। হোয়াইট হাউস দক্ষিণ এশিয়ার এই পরমাণু শক্তিধর দেশটির ভূমিকা ‘অসাধারণ’ হিসেবে প্রশংসা করেছে এবং পরবর্তী আলোচনাগুলো পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে। সংবাদমাধ্যম দ্য নিউজ জানায়, পাকিস্তানে ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা চলছে এবং ওয়াশিংটন এ বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর ব্যাপারে আশাবাদী। তবে তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বন্দর অবরোধ তুলে না নিলে তারা লোহিত সাগরের বাণিজ্য বন্ধ করে দিতে পারে, যা উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। এর আগে একটি পাকিস্তানি প্রতিনিধি দল তেহরানে পৌঁছে সেখানে ওয়াশিংটনের নতুন বার্তা নিয়ে আলোচনা করেছে। এদিকে, পাকিস্তানের প্রধান আলোচক ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরও ইরানে সফর করছেন, যেখানে ইরান ও পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বার্তালাপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, পরবর্তী আলোচনা ‘খুব সম্ভবত’ ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হবে এবং তারা একটি চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী। তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের অসাধারণ মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার প্রতি কৃতজ্ঞ। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক বিরোধ ও ছয় সপ্তাহের চলমান যুদ্ধ শেষ করার জন্য একটি বড় চুক্তির প্রস্তাব তাদের দেওয়া হয়েছে। তিনি প্রথম দফার আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্য একই হওয়া উল্লেখ করে বলেছেন, তারা চান ইরান থেকে সমৃদ্ধ পারমাণবিক উপাদান সরিয়ে নেওয়া হোক, পারমাণবিক সক্ষমতা বন্ধ করা হোক এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া হোক। এই সব উন্নয়ন মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য নতুন আশা জাগাচ্ছে, যেখানে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা কমিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।