ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড সীমিত উৎপাদনে চলছে, তেল সরবরাহ স্বাভাবিক দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়ার খবর ছড়িয়েও বাস্তবে প্রতিষ্ঠানটি লো-ফিড বা সীমিত পরিসরে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অপরিশোধিত তেলের জাহাজ সময়মতো পৌঁছাতে না পারায় এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেন, শোধনাগারটি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি এবং দেশের জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার বিকল্প সব ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে। তিনি জানান, ২০২৬ সালের মার্চ মাসের নির্ধারিত অপরিশোধিত তেলের চালান সময়মতো না আসায় উৎপাদন কমানো হয়েছে। তবে সরকার পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী পরিশোধিত তেল আমদানির কাজ অব্যাহত রেখেছে এবং আপদকালীন সংকট মোকাবিলায় বিদেশ থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে তেল আনার উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে। মনির হোসেন চৌধুরী আশ্বাস দিয়েছেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে অপরিশোধিত তেলের স্বল্পতা থাকলেও পরিশোধিত তেল আমদানির মাধ্যমে ঘাটতি পূরণ করা হচ্ছে। গ্রাহক পর্যায়ে তেল সরবরাহে কোনো বিঘ্ন ঘটার কারণ নেই এবং উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। দেশের প্রধান জ্বালানি ডিজেলের মাত্র ১৫ শতাংশ এবং পেট্রোলের ১১ শতাংশ ইআরএল থেকে আসে, যা বিকল্প আমদানির মাধ্যমে সহজেই পূরণ সম্ভব। বর্তমানে শোধনাগারের চারটি ইউনিটের মধ্যে দুটি ইউনিটে রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চলছে এবং বাকি দুটি ইউনিট সচল রাখা হয়েছে। ইআরএল মূলত সৌদি আরব থেকে অ্যারাবিয়ান লাইট ক্রুড এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে মারবান ক্রুড আমদানি করে থাকে। প্রতিষ্ঠানটি বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন জ্বালানি তেল সরবরাহ করে যা দেশের মোট চাহিদার প্রায় এক পঞ্চমাংশ। সরকার শোধনাগারের উৎপাদন সক্ষমতা আংশিক কমিয়ে কৌশলগতভাবে মজুত ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ করছে, যাতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা অক্ষুণ্ণ থাকে।