সরকার চলতি ও আগামী মাসে আরও ১৬ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করবে। বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) জানিয়েছে, এপ্রিলে ৯ কার্গো এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে যার মধ্যে চারটি ইতিমধ্যেই দেশে পৌঁছেছে। মে মাসে ১১ কার্গো এলএনজি আমদানি পরিকল্পনা রয়েছে, যার মধ্যে সাতটি কার্গো নিশ্চিত এবং বাকি চারটির কেনার প্রক্রিয়া চলছে। এই এলএনজি কার্গোগুলো অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র এবং আফ্রিকার অ্যাঙ্গোলা থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে। পেট্রোবাংলার অধীন রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে এবং বিকল্প উৎস থেকে গ্যাস সংগ্রহের প্রস্তুতি থাকায় সরবরাহে বিঘ্নের আশঙ্কা নেই। দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন সীমিত হওয়ায় সরকার এলএনজি আমদানি বাড়িয়ে জ্বালানি সংকট এড়াতে ভর্তুকি দিয়েও আমদানির কাজ অব্যাহত রেখেছে। তবে, বিশ্ববাজারে এলএনজির মূল্য বৃদ্ধির কারণেই দেশের জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর প্রভাব ফেলছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির কারণে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে। দাম কমলে স্বস্তি ফিরতে পারে, না হলে এই চাপ অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া থেকেও এলএনজি আমদানি করা যেতে পারে, যেগুলো ভৌগোলিক ও কূটনৈতিক দিক থেকে বাংলাদেশের জন্য সুবিধাজনক বিকল্প উৎস। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া থেকে এলএনজি আমদানি বাড়ালে দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে সাহায্য মিলবে এবং আমদানির খরচও কমে আসবে, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।