এক সময় ছিল, যখন চেলসি মাঠে পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তাদের অর্থব্যয়ের সাফল্যকে প্রতিফলিত করত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তিত হয়েছে মালিকানা, এবং সেইসঙ্গে বদলে গেছে গল্পের মোড়। উয়েফার নতুন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে একটি চমকপ্রদ তথ্য—২০২৪ সালে গঠিত চেলসির স্কোয়াড ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে!
টাকার ঢালার নতুন রেকর্ড, কিন্তু সাফল্য কোথায়? উয়েফার বার্ষিক European Club Finance and Investment Landscape রিপোর্টের বিশ্লেষণ বলছে, ২০২৪ সালের আর্থিক বছরে চেলসির স্কোয়াড গঠনে ব্যয় হয়েছে staggering ১.৬৫৬ বিলিয়ন ইউরো! এটি আগের রেকর্ডধারী ২০২৩ সালের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড স্কোয়াডের চেয়ে অনেক বেশি, যা ছিল ১.৪২২ বিলিয়ন ইউরো।
টড বোহেলি ও ক্লিয়ারলেক ক্যাপিটালের মালিকানায় আসার পর থেকে মাত্র ছয়টি ট্রান্সফার উইন্ডোতে ৪১ জন খেলোয়াড় কিনেছে চেলসি। অথচ এই বিপুল বিনিয়োগ সত্ত্বেও মাঠের ফলাফল হতাশাজনক—না চ্যাম্পিয়ন্স লিগে জায়গা নিশ্চিত করতে পেরেছে, না জিততে পেরেছে কোনো ট্রফি।
ইংলিশ ক্লাবগুলোর ব্যয়বহুল দৌড়
কিন্তু চেলসির একার দৌড় নয়; ২০২৩ সালে ইংলিশ ক্লাবগুলোর ট্রান্সফার ব্যয় ১৭% বৃদ্ধি পেয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে—২.১ বিলিয়ন ইউরো! বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ২০টি স্কোয়াডের মধ্যে ৯টি প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব।
এই তালিকার শীর্ষে চেলসি, তবে তাদের পাশাপাশি অন্যান্য ইংলিশ জায়ান্টদের ব্যয়ও চোখ ধাঁধানো। ম্যানচেস্টার সিটি—১.১৭৫ বিলিয়ন ইউরো ব্যয় করে দ্বিতীয় অবস্থানে, আর্সেনাল—১.১৪৫ বিলিয়ন ইউরো ব্যয়ে তৃতীয়, চার নম্বরে বার্সেলোনা, তাদের ব্যয় ৭৩৩ মিলিয়ন ইউরো, আর পঞ্চমে লিভারপুল—৬৫৭ মিলিয়ন ইউরো নিয়ে।
একাধিক তারকা কেনার এই ব্যয়বহুল প্রতিযোগিতায় চেলসি সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে।
সমর্থকদের অসন্তোষ, মালিকানার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ!
কিন্তু মাঠের ফলাফল না আসায় চেলসি ভক্তদের ধৈর্যের বাঁধ ভাঙছে। সর্বশেষ সাউদাম্পটনের বিপক্ষে ম্যাচের আগে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজের সামনে ক্লাবের মালিকানার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে সমর্থকরা। বিপুল অর্থ ঢালার পরও কেন ট্রফির দেখা নেই—এটাই তাদের প্রশ্ন!
চেলসির ভবিষ্যৎ কোন পথে?
যেখানে ম্যানচেস্টার সিটি, আর্সেনাল কিংবা লিভারপুল ব্যালান্সড দল তৈরি করে সাফল্যের পথে এগোচ্ছে, সেখানে চেলসি যেন দিশেহারা। শুধু অর্থ ঢাললেই কি সফলতা আসে? উত্তর খুঁজতে এখনো ছুটছে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজ!
এভাবে, চেলসির এই অস্থিরতা এবং সমর্থকদের অসন্তোষ ফুটবল জগতের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরছে: সত্যিই কি অর্থের বিনিয়োগই সবকিছু?