ম্যাট হেনরির উইকেটের জবাব সশরীরে দিলেন বরুণ চক্রবর্তী, আর সেই জবাবও ছিলো একেবারে সুনির্দিষ্ট—৫ উইকেট! নিউজিল্যান্ডের পেসারের মতোই ভারতীয় স্পিনার বরুণও ৫ উইকেট নিয়ে মাঠ ছাড়লেন। তবে শুধু উইকেটের জবাব দিলেন না, ভারতকে জয়ের হাতেও পৌঁছে দিলেন তিনি। ৩৩ বছর বয়সী এই স্পিনারের দুর্দান্ত ঘূর্ণিতে ভারত জয় পেল ৪৪ রানে, আর সেই সঙ্গে ‘এ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়নও হয়ে গেল।
আজকের ম্যাচে অবশ্য ভারতের লক্ষ্যটা ছিল তেমন বড় নয়—বলা যায়, প্রথমে ব্যাটিং করে ২৪৯ রানের পাহাড় তৈরী করতে পেরেছিল তারা। কিন্তু সেই লক্ষ্যটিকেই যেন পাহাড় হয়ে তুলে দিল ভারতের স্পিন চতুষ্টয়। তাদের মায়াজাল ছিল এতটাই সজীব যে, কিউই ব্যাটাররা একে একে কুপোকাত হতে থাকেন।
বিশেষভাবে, বরুণের স্পিনের জাদু কিউইদের জন্য যেন অবর্ণনীয় হয়ে উঠেছিল। দ্বিতীয়বারের মতো ওয়ানডে ম্যাচ খেলতে নামা উইল ইয়াং এবং গ্লেন ফিলিপসদের বিরুদ্ধে গুগলি-কুইকারে একের পর এক উইকেট তুলে নেন তিনি। ক্যারিয়ারের প্রথম ৫ উইকেট পাওয়া এই স্পিনার, তার অসাধারণ বোলিংয়ের পুরস্কার হিসেবে ম্যাচসেরার পুরস্কারও লাভ করেন।
দুবাইয়ের তীব্র গরমে ২৫০ রান তাড়া করতে নামার পরেই ধাক্কা খায় নিউজিল্যান্ড। ১৭ রানের সময়, রাচিন রবীন্দ্রকে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন হার্দিক পান্ডিয়া। এরপর, ভারতীয় স্পিনারদের কৃপণ বোলিংয়ে কিউই ব্যাটারদের ওপর চাপ আরও বাড়ে। অক্ষর প্যাটেল, কুলদীপ যাদব, রবীন্দ্র জাদেজার দুর্দান্ত বোলিংয়ের পর, উইকেটের সুযোগগুলো গ্রহণ করেন বরুণ।
তবে, স্পিনারদের এমন দাপটের মধ্যে একমাত্র রুখে দাঁড়িয়ে ছিলেন কেন উইলিয়ামসন। ৮১ রান পর্যন্ত টিকেছিলেন, এবং ছিলেন দলের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। কিন্তু ১৬৯ রানে তার আউট হওয়ার পর, আরও দ্রুত বাকি ৩ উইকেট হারিয়ে ২০৫ রানে অলআউট হয়ে যায় নিউজিল্যান্ড।
এই পরাজয়ের পর, নিউজিল্যান্ড ‘এ’ গ্রুপের রানার্স-আপ হয়ে চূড়ান্ত চারে স্থান পেয়েছে। লাহোরের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ‘বি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আফ্রিকা। অন্যদিকে, ভারতের প্রথম সেমিফাইনালের প্রতিপক্ষ হবে অস্ট্রেলিয়া।
এভাবে, একদিকে বরুণের স্পিনের গুঞ্জনে ভারত জয়ী, অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের জন্য কঠিন পথ—এই ম্যাচটি যেন ছিল এক নাটকীয় কূটনৈতিক যুদ্ধের মতো, যেখানে বলের ঘূর্ণনেই শেষ হয়ে গেল কিউইদের স্বপ্ন।