দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে বাংলাদেশে পা রেখেছেন হামজা চৌধুরী। এর আগেও তিনি একাধিকবার বাংলাদেশে এসেছেন, কিন্তু এবার তার আগমন ছিল এক বিশেষ উদ্দেশ্যে—জাতীয় ফুটবল দলের হয়ে খেলার উদ্দেশ্যে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের মাঠে খেলা এই প্রতিভাবান মিডফিল্ডারের আগমনে পুরো দেশটাই যেন উন্মাদনায় ভাসছে। দেশের ফুটবলপ্রেমীরা তাঁকে এক নজর দেখার জন্য ভিড় জমাচ্ছেন, আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে ভালোবাসায় সিক্ত করছেন। এমন উন্মাদনা, এক একজন ফুটবলারের জন্য, এটা যে কতটা অস্বাভাবিক—এটা ফুটবলবিশ্বও বিস্ময় নিয়ে দেখছে।
সোমবার (১৭ মার্চ) বাংলাদেশে পা রাখার পর, হামজা চৌধুরী সরাসরি সিলেটে চলে যান, যেখানে তার গ্রামের মানুষরা তাঁকে অপ্রতিরোধ্য ভালোবাসায় ঘিরে ধরেন। এবং এদিকে, সামাজিক মাধ্যমেও হামজাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে এক উন্মাদনা, যা তার কল্পনাকেও ছাড়িয়ে গেছে। এমন পরিণতি, একজন বিদেশি ফুটবলারের জন্য—এটা আসলে অনন্য এক মুহূর্ত।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব লেস্টার সিটির মিডফিল্ডার হামজা বর্তমানে শেফিল্ড ইউনাইটেডে ধারে খেলছেন। তার প্রতি এই উন্মাদনার খবর উঠে এসেছে লেস্টার ভিত্তিক গণমাধ্যম লেস্টার মার্কের ফুটবল প্রতিবেদক জশ হল্যান্ডের টুইটেও। হামজার প্রতি ভক্তদের প্রবল আগ্রহের বিষয়টি এক্স হ্যান্ডেলে উল্লেখ করেছেন তিনি, আর এতে তার প্রতি ভালোবাসা আরও বেড়ে গেছে।
বাংলাদেশের হয়ে হামজার অভিষেক হতে যাচ্ছে ভারতের বিপক্ষে। ২৫ মার্চ, শিলংয়ে অনুষ্ঠিত হতে চলা সেই ম্যাচটি আসলে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হতে যাচ্ছে। ভারতের ফুটবলপ্রেমীরাও যে হামজার প্রতি আগ্রহী, তা স্পষ্ট। ইএসপিএন ইন্ডিয়ার সামাজিক মাধ্যমেও হামজা তার জায়গা করে নিয়েছেন, আর ক্রীড়া বিষয়ক ওয়েবসাইট রেভস্পোর্টজেও তার নাম আলোচিত হচ্ছে। ভারতের ফুটবল বিশ্লেষকরাও হামজাকে নিয়ে আলোচনা করছেন।
এর পাশাপাশি, হামজা চৌধুরীর প্রতি আগ্রহ শুধু বাংলাদেশ এবং ভারতেই সীমাবদ্ধ নয়—ইন্দোনেশিয়া, ইংল্যান্ড এবং স্পেন থেকেও তার সম্পর্কে টুইট করা হয়েছে। এমনকি আর্জেন্টিনার সাংবাদিকের টুইটেও উঠে এসেছে হামজার কথা, যেখানে বাংলাদেশের ফুটবল ভক্তদের উন্মাদনার খবর শেয়ার করা হয়েছে। এটা যেন ফুটবলবিশ্বের মধ্যে হামজা চৌধুরী নামক এক নতুন নক্ষত্রের উন্মোচন।