যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনে ধনকুবের ইলন মাস্কের প্রভাব কিছুটা কমানোর লক্ষ্যে তিনি মার্কিন ফেডারেল সরকারের দায়িত্ব থেকে সরে যাচ্ছেন। এবিসি নিউজ এবং পলিটিকোর রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ঘনিষ্ঠ মহলে এই তথ্য প্রকাশ করেছেন। তবে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট পলিটিকোয় প্রকাশিত খবরটিকে ‘গার্বেজ’ বা আবর্জনা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি এক্স হ্যান্ডেলে উল্লেখ করেছেন, ইলন মাস্ক এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আগেই জানিয়ে দিয়েছেন যে, ডজে তার অসাধারণ কাজ শেষ হলে মাস্ক সরকারি পদ থেকে বিদায় নেবেন। এই সপ্তাহের শুরুতে, ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে, মাস্ক এক সময় তার কোম্পানির কাজে ফিরে যাবেন। তিনি বলেন, “ও অসাধারণ কাজ করছে। কিন্তু ওকে বড় সংস্থা চালাতে হয়। কোনও একটা সময় ও চলে যাবে। ও সেটাই চায়।” দ্বিতীয় ট্রাম্প সরকারের শুরু থেকেই টেসলা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স এবং স্পেসএক্সের মালিক ইলন মাস্ককে বিভিন্ন কাজে সামনের সারিতে দেখা গেছে। মাত্র দুই মাসের মধ্যে, সরকারের ব্যয় সংকোচনের কাজে ডিপার্টমেন্ট অফ গভর্নমেন্ট এফিশিয়েন্সি বা ডজের প্রধান হিসেবে একাধিক সরকারি দপ্তরে তালা ঝুলিয়েছেন মাস্ক। ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাস্কের বিপুল সংখ্যক সরকারি কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্তে ট্রাম্প প্রশাসন অস্বস্তিতে পড়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে মাস্কের এই কর্মকাণ্ড নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে, কারণ তিনি জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি নন। টেসলার বিনিয়োগকারীরা অভিযোগ করেছেন যে, সরকারি কাজে মনোযোগ দেওয়ার কারণে মাস্ক তার নিজস্ব সংস্থায় যথেষ্ট সময় দিচ্ছেন না। টেসলা বয়কট হতে পারে, এই আশঙ্কায় ডিসেম্বরের পর থেকে সংস্থার স্টক ক্রমশ নিচে নেমেছে। ২০২৫ সালের প্রথম কোয়ার্টারে টেসলার বিক্রি ১৩ শতাংশ কমেছে বলে জানা গেছে। এর আগে বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইলন মাস্ক সরকারি দক্ষতা বিভাগে (ডজ) তার ভূমিকা থেকে পদত্যাগ করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। এছাড়া, ফক্স নিউজের একটি সাক্ষাৎকারে মাস্ক বলেছেন, মে মাসের শেষের দিকে তিনি সংস্থাটি ত্যাগ করতে পারেন। এভাবে, মাস্কের পদত্যাগের সম্ভাবনা এবং তার সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের জটিলতা, উভয়ই রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করছে।