যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী: নতুন রাজনৈতিক কৌশল ও আন্তর্জাতিক প্রভাব!! মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের হাতে পাওয়া একটি ফাঁস হওয়া অডিওতে প্রকাশ পেয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র নীরবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দলের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছে। ঢাকায় নিযুক্ত এক মার্কিন কূটনীতিক দেশের নারী সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জামায়াতের সঙ্গে ‘বন্ধুত্ব’ গড়ে তোলার ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং আগামী জাতীয় নির্বাচনে দলটির সম্ভাব্য শক্তিশালী ফলাফলের প্রেক্ষিতে তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। এই পদক্ষেপ মার্কিন নীতিতে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে, যেখানে পূর্বে জামায়াতকে নিষিদ্ধ ও ইসলামপন্থী হিসেবে দেখা হতো। জামায়াত বর্তমানে নিজেদের পুনর্ব্র্যান্ডিং করে দুর্নীতিবিরোধী, সংস্কারমুখী ও নির্বাচনী রাজনীতিতে অংশগ্রহণে প্রস্তুত হিসেবে উপস্থাপন করছে। যুক্তরাষ্ট্রও আপাতত এই পরিবর্তনকে সমর্থন করছে বলে মনে হচ্ছে। অডিওতে মার্কিন কূটনীতিক জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে অর্থনৈতিক চাপের শক্তিশালী হাতিয়ার, যার মাধ্যমে জামায়াত আদর্শিক সীমা অতিক্রম করলে রপ্তানিনির্ভর বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে শুল্ক আরোপের মাধ্যমে প্রভাবিত করা হবে। তিনি স্পষ্ট করেছেন, শরীয়াহ আইন চালু করলে যুক্তরাষ্ট্র তা প্রতিহত করতে পোশাক খাতে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে, যা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য মারাত্মক ক্ষতি। এই কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রসার ভারতের উদ্বেগও বাড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতকে নিরাপত্তা ঝুঁকি ও অস্থিতিশীলতার উৎস হিসেবে দেখছে দিল্লি, এবং পাকিস্তানের সঙ্গে দলের আদর্শিক সম্পর্কের অভিযোগ রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন কৌশল যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্কের জটিলতাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। সর্বোপরি, এই ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যা ভবিষ্যতে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও আঞ্চলিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।