ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন আসনে ভোট কারচুপির অভিযোগের প্রেক্ষিতে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য উচ্চ আদালতে রিট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) মগবাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ঐক্যের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। বৈঠকে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর প্রতিনিধিরা নির্বাচন প্রক্রিয়ার অনিয়ম ও গেজেট প্রকাশের দুর্বলতাকে চিহ্নিত করে ভোট পুনঃগণনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত প্রার্থীদের জন্য প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। বৈঠকে নির্ধারিত হয়, আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি ৩০টিরও বেশি আসনে ভোট কারচুপির অভিযোগ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রার্থীদের পক্ষে অভিযোগ জমা দেওয়া হবে। এছাড়াও, ঐক্য শুধুমাত্র নির্বাচনী লড়াই পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সংসদ এবং সংসদ বাহিরেও দেশের স্বার্থে একত্রে কাজ করবে। দলগুলো ভবিষ্যতে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি ও পদক্ষেপ জোটগতভাবে বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। বৈঠকে জুলাই সংবিধান সংশোধনী সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত গণভোটের ফলাফলকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়। ১১ দলীয় ঐক্য দাবি করে যে, ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হওয়ায় সংসদের উচ্চকক্ষে ১০০ আসন প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে বিতরণ করা হবে এবং সংসদ কার্যকর হওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে এই সনদ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করতে হবে। নির্বাচনের আগে ও পরে ১১ দলীয় ঐক্যের নারী কর্মীদের উপর হামলাসহ সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে নেতারা সতর্ক করে বলেন, সহিংসতা বন্ধ না হলে জনগণকে নিয়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হবে ঐক্য। একই সঙ্গে তারা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানায়। বৈঠকের শেষে ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।