ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের গড়তে ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি দেশবাসীকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এই বিজয় বাংলাদেশের, গণতন্ত্রের এবং গণতন্ত্রকামী জনগণের। তারেক রহমান সবাইকে একত্রে কাজ করার ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্যই আমাদের শক্তি, বিভাজন দুর্বলতা। নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান নির্বাচনের পর শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সহিংসতা, প্রতিশোধ ও উসকানিমূলক কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ভুল বোঝাবুঝি বা উত্তেজনা থাকলেও তা যেন কখনো প্রতিহিংসায় পরিণত না হয়। তারেক রহমান আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় বিশ্বাস ব্যক্ত করে বলেন, আইনের শাসন ছাড়া গণতন্ত্র টেকসই হবেনা এবং সবাই আইনের অধীনে সমানভাবে থাকবে। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির অন্যান্য শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তারা নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও অন্তর্বর্তী সরকারকে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘদিন পর জনগণের সরাসরি ভোটে দায়বদ্ধ সংসদ ও সরকার গঠনের এই মুহূর্তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, যাতে দেশে ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান না ঘটে। তিনি প্রয়াত দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে তার অবিচল নেতৃত্ব ও গণতন্ত্রের প্রতি অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করেন। দেশের জনগণ বিএনপির প্রতি যে আস্থা ও ভালোবাসা দেখিয়েছে, তারেক রহমান আশা প্রকাশ করেন, দলের সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনগণের বিশ্বাসের প্রতিদান দেবেন। পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, দেশের মানুষের স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেবেন এবং সার্ক পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করবেন। তিনি ফ্যাসিবাদের রেখে যাওয়া দুর্বল অর্থনীতি, অকার্যকর প্রতিষ্ঠান ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন। বিদেশি সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়টি দেশের আইনের আলোকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান দেশের শান্তি ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সকল রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান এবং নির্বাচনের পর শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘এবার দেশের গড়ার পালা, এতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।’