হাম একটি সংক্রামক রোগ যা নাক ও গলায় অবস্থানকারী একটি ভাইরাসের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এই রোগ গুরুতর অসুস্থতা, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এবং কখনো কখনো মৃত্যুর কারণ হতে পারে। হামের ফলে রোগীর ডায়রিয়া, কানের সংক্রমণ, মস্তিষ্কের ক্ষতি, শ্রবণশক্তি হ্রাস এবং অন্ধত্বের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে গর্ভবতী মহিলা, শিশু, ছোট বাচ্চা এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তিরা হামের গুরুতর প্রভাবের শিকার হন। হামের কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই, তাই সুরক্ষা ও প্রতিরোধই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। হাম কিভাবে ছড়ায়? হাম সহজেই বাতাসের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সংক্রামিত ব্যক্তি যখন কাশি বা হাঁচি দেয়, তখন ভাইরাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং অন্যরা তা শ্বাস নিলে সংক্রমিত হতে পারে। এমনকি সংক্রামিত ব্যক্তি এলাকা ছেড়ে যাওয়ার দুই ঘণ্টা পরেও ভাইরাস সংক্রমিত থাকতে পারে। উপসর্গ দেখা দেওয়ার আগেও হাম ছড়াতে সক্ষম। হামের লক্ষণগুলো কী? হামের প্রধান লক্ষণগুলো হলো উচ্চ জ্বর (১০১° ফারেনহাইট বা তার বেশি, কখনো ১০৪° ফারেনহাইটেরও বেশি), কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হয়ে পানি পড়া, মুখের ভেতরে ছোট সাদা দাগ (কপলিক স্পট) এবং লাল দাগের র্যাশ যা সাধারণত মুখ বা চুলের গোড়া থেকে শুরু হয়ে শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে। হাম হলে করণীয় কী? যদি সন্দেহ হয় হাম হয়েছে, অবিলম্বে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করুন এবং তাদের নির্দেশনা অনুসরণ করুন। স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশ ছাড়া জরুরি বিভাগে বা হাসপাতালে যাবেন না, যাতে অন্যদের সংক্রমিত না করেন। প্রতিরোধে যা করা উচিত: মাস্ক পরুন যাতে অন্যদের সংক্রমিত না করেন। কাশি বা হাঁচি দেওয়ার সময় টিস্যু ব্যবহার করুন এবং তা নিরাপদে ফেলে দিন, বা কনুইতে ঢেকে কাশি দিন। ঘন ঘন সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধুয়ে নিন। পানীয় ও খাবারের বাসন ভাগাভাগি ব্যবহার করবেন না। ঘন ঘন স্পর্শ করা পৃষ্ঠতল যেমন দরজার হাতল, টেবিল, কাউন্টার এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইস জীবাণুমুক্ত করুন। হাম থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সচেতনতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই প্রাথমিক ও কার্যকর উপায়।