বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, আগামী তিন মাসের জ্বালানি তেলের চাহিদা মেটাতে প্রয়োজনীয় আমদানির জন্য ইতোমধ্যে নতুন ও সম্ভাবনাময় উৎস খুঁজে পাওয়া গেছে। এসব উদ্যোগ দেশের জ্বালানি সঙ্কটের সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী রোববার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, এপ্রিল মাসের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ জ্বালানি মজুত রয়েছে এবং প্রায় তিন মাসের পেট্রোল ও অকটেনও সংরক্ষণ করা হয়েছে। এই মজুত দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে শক্তিশালী করবে এবং বাজারে জ্বালানির সরবরাহ অব্যাহত রাখবে। রাশিয়া থেকে তেল আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করছে এবং এর প্রেক্ষিতে মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সরকার আশা করে যে, মার্কিন প্রশাসন এই বিষয়ে সহযোগিতা করবে, যা দেশের জ্বালানি আমদানিতে সহায়ক হবে। একই সময়ে, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় চার লাখ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে বলেও প্রতিমন্ত্রী জানান, যা অবৈধ জ্বালানি সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর পদক্ষেপের প্রমাণ। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় তিন মাসের জ্বালানি মজুত নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে, শপিং মলগুলো বন্ধের সময় সন্ধ্যা ৬টার পরিবর্তে সন্ধ্যা ৭টায় নির্ধারণ করা হয়েছে, যেটি দোকান মালিক সমিতির আবেদনের ভিত্তিতে বাস্তবায়িত হয়েছে। অন্যদিকে, কৃষকদের জ্বালানি সরবরাহে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়েও বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। কোনো কৃষক যদি জ্বালানি তেল পেতে সমস্যা মুখোমুখি হন, তবে তা দ্রুত সমাধানের জন্য জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা মাঠ পর্যায়ে জ্বালানি সেবার গুণগত মান উন্নয়নে সহায়ক হবে। এই সব পদক্ষেপ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে এবং জনগণের দৈনন্দিন জীবনে জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় সরকারের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।