মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ চলমান মামলায় সোমবার (১৮ আগস্ট ২০২৫) পর্যন্ত ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে। বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল আগামী বুধবার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেছে। এর আগে গত চার দিনে এই মামলায় নয়জন সাক্ষীর জবানবন্দি ও জেরা সম্পন্ন হয়। ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম এবং গাজী এম এইচ তামিম। অন্যান্য প্রসিকিউটররাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন। পলাতক আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন এবং গ্রেফতারকৃত আসামি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের পক্ষে আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ শুনানিতে অংশ নেন। গত ১০ জুলাই ট্রাইব্যুনাল-১ এই তিন আসামির বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয়। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান দমনে প্ররোচনা, ষড়যন্ত্র, সহযোগিতা এবং ১,৪০০ জনের মৃত্যু ও ২৫,০০০ জনের আহত হওয়ার জন্য কমান্ড দায়িত্বে ব্যর্থতা। সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন করেন, যা ট্রাইব্যুনাল মঞ্জুর করে, তাকে ঘটনার সত্যতা উদঘাটনে সহায়তার শর্তে রাজসাক্ষী হিসেবে গ্রহণ করে। গত ১৬ জুন ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে আত্মসমর্পণের জন্য একটি বাংলা ও একটি ইংরেজি দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেয়। পরদিন প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে তাদের সাত দিনের মধ্যে হাজির হতে বলা হয়। তবে তারা হাজির না হওয়ায় রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীর মাধ্যমে তাদের প্রতিনিধিত্ব করা হচ্ছে। শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে স্ব-নির্বাসনে রয়েছেন এবং এই অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। এই মামলা গত বছরের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গত ১ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়। এটি ছাড়াও শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলা রয়েছে—একটি তাঁর ১৫ বছরের শাসনামলে গুম ও হত্যার অভিযোগে এবং অপরটি মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়, এবং এই মামলা প্রথম দায়ের করা হয়। প্রসিকিউশন জানিয়েছে, তারা আগামী অক্টোবরের মধ্যে তদন্ত কর্মকর্তা ছাড়া বাকি সাক্ষীদের জবানবন্দি সম্পন্ন করতে আশাবাদী। এই বিচার কার্যক্রম বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের শিকারদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির প্রত্যাশাকে তুলে ধরছে।