বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের নতুন মুদ্রানীতি ও অর্থনৈতিক সতর্কতা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে কর আদায় না বাড়ানোর ফলে সরকারের ওপর ব্যাংক ঋণের বোঝা বাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে সতর্কতা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এতে মূল্যস্ফীতি তীব্র হতে পারে যা অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি বহন করে। সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই মুদ্রানীতি ঘোষণার সময় তিনি এ কথা উল্লেখ করেন। গভর্নর আরও জানান, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আস্থার অভাবে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার তুলনায় কম হয়েছে। বাজেটে কাটছাঁটের পরও ব্যাংক ঋণের হার বেড়ে যাওয়ায় অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, ব্যাংকিং খাতকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে এ সংস্কার জরুরি। আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে আর্থিক খাতের সংস্কারের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে। অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান তুলে ধরে গভর্নর জানান, চলতি অর্থবছরে বাজার থেকে চার বিলিয়ন ডলার কেনা হয়েছে এবং গত এক বছরে কোনো ডলার রিজার্ভ থেকে বিক্রি করা হয়নি। তিনি বলেন, চার বছরে আইএমএফ থেকে যে ঋণ পাওয়ার কথা ছিল, তার চেয়ে বেশি ডলার রিজার্ভে কেনা হয়েছে যা অর্থনীতির স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ। মুদ্রানীতির সফলতা নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলেও অন্যান্য সূচকগুলিতে সরকার ভালো কাজ করেছে এবং আশাবাদ ব্যক্ত করেন মূল্যস্ফীতিও শিগগিরই কমবে। তবে পলিসি রেট কমানোর বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা রেখে বলেন, একটি লক্ষ্য অর্জিত না হওয়ায় এই মুহূর্তে পলিসি রেট কমানো ঠিক হবে না। রিজার্ভের অবস্থান ভালো এবং আইএমএফের শর্ত অনুসারে রিজার্ভ রাখার তাগিদও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।