চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে ফোনালাপ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য বৈঠকের খবরের কারণে বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা কমে আসায় বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ পণ্য থেকে সরে এসেছে। রূপার দাম প্রায় ১৫ শতাংশ পর্যন্ত লुढ়ে গেছে, আর স্বর্ণ, অপরিশোধিত তেল ও তামার দাম গড়ে প্রায় ২ শতাংশ কমেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান পণ্যবাজারে বিক্রির চাপ বাড়িয়েছে, কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্য ডলারে নির্ধারিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পুনরায় আলোচনার সম্ভাবনা এবং ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের ফোনালাপের পর বাণিজ্য উত্তেজনা হ্রাস পাওয়ায় বিশেষ করে তেলের বাজারে অতিরিক্ত মূল্যচাপ কমেছে। ডলারের স্থিতিশীলতা ও শক্তিশালী অবস্থানের ফলে অন্যান্য মুদ্রার বিনিয়োগকারীদের জন্য পণ্য কেনা ব্যয়বহুল হওয়ায় দাম কমে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে, কঠোর মুদ্রানীতির আশঙ্কা ও ফেডারেল রিজার্ভের সম্ভাব্য নতুন নেতৃত্বের প্রভাব পণ্যের দামে ওঠানামা সৃষ্টি করেছে। তামার বাজারে চাহিদা ও মজুত বৃদ্ধির কারণে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। তবে সয়াবিনের দাম বাড়ছে, যা দুই মাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, চীন থেকে আমদানি বৃদ্ধির সম্ভাবনার কারণে। অন্যদিকে অতিরিক্ত মজুতের কারণে লৌহ আকরিকের দামও প্রায় ২ শতাংশ কমেছে। মোটের উপর, সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ আন্তর্জাতিক পণ্যের বাজারে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে, যা মূল্যবৃদ্ধি ও পতনের মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।