মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি হুমকি দিয়েছেন যে তিনি চাইলে এক দিনের মধ্যেই ইরানকে দখল করে নিতে পারেন এবং দেশের তেলক্ষেত্রও দখল করতে সক্ষম। তবে মার্কিনিরা যুদ্ধ থেকে ফিরে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এই দাবি ও সত্যতার মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে। সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বিষয়টিকে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে বলা হয়েছে, বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এক দিনের মধ্যে ইরান দখল করা কঠিন এবং ব্যাপক চ্যালেঞ্জপূর্ণ। গ্রিফিথ এশিয়া ইনস্টিটিউটের ফেলো এবং রয়্যাল অস্ট্রেলিয়ান এয়ার ফোর্সের সাবেক কর্মকর্তা পিটার লেটন একটি কাল্পনিক অভিযানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কতটা সামরিক শক্তি প্রয়োগ করতে পারে তা হিসেব করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, মাত্র ছয়টি বি-২ স্টেলথ বোমারু বিমান দিনে দুই দফা অভিযান চালালে ১৯২টি জয়েন্ট ডাইরেক্ট অ্যাটাক মিউনিশন (জেডিএএম) বোমা নিক্ষেপ করতে পারবে। এর সঙ্গে ৪০টি এফ-১৫ বিমানের যৌথ বিমান বাহিনী যোগ করলে এটি আরও ২৪০টি বোমায় বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে মোট ৩৩২টি বোমা ছোড়া সম্ভব, যা অনেক লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত দিতে সক্ষম। তবুও, লেটন উল্লেখ করেছেন যে এসব বোমা প্রত্যেকটি লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষতি করবে, কিন্তু মাঝারি থেকে বড় সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করা সহজ হবে না। কারণ এসব স্থাপনার কাঠামো অত্যন্ত শক্তিশালী, প্রচুর রিইনফোর্সড কংক্রিট ব্যবহার করা হয়েছে, এবং সেগুলো জটিলভাবে সুরক্ষিত। বিদ্যুৎকেন্দ্রের জেনারেটরগুলোতে আঘাত করা সম্ভব হলেও অতিরিক্ত জেনারেটর না থাকার কারণে সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক সরবরাহ বন্ধ করার সুযোগ সীমিত। যুক্তরাষ্ট্র বি-১ ও বি-৫২ বোমারু বিমানও ব্যবহার করতে পারে, যা বোমার সংখ্যা ও আঘাতকে বাড়াতে পারে, কিন্তু সত্ত্বেও এক রাতেই ইরানকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করার ক্ষমতার বিষয়টি সন্দেহজনক বলেই বিবেচিত হচ্ছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন বড় ধরনের অভিযান সফল করতে ব্যাপক পরিকল্পনা, সময় এবং সম্পদ প্রয়োজন, যা সল্পমেয়াদে সম্ভব নয়। এই বিশ্লেষণ থেকে স্পষ্ট যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হুমকির পেছনে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বক্তব্য থাকলেও বাস্তব সামরিক সক্ষমতা ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তা অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে।