ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ২০২০ সালের নির্বাচনে বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনকে নতুন করে মেয়র ঘোষণা করেছে আদালত। বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) দুপুরে, নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ মো. নুরুল ইসলাম এই রায় দেন। আদালতের নির্দেশে, নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী সাবেক মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের মেয়র পদে থাকা সরকারের গেজেট বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে, ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ইশরাক হোসেনকে নতুন মেয়র হিসেবে ঘোষণা করা হয়। রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন ইশরাক হোসেন নিজেই।
২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে, উত্তরে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আতিকুল ইসলাম এবং দক্ষিণে শেখ ফজলে নূর তাপস নির্বাচিত হন। নির্বাচন কমিশন ২ ফেব্রুয়ারি ভোটের গেজেট প্রকাশ করে, এরপর তারা শপথ নিয়ে মেয়র পদে দায়িত্ব পালন করতে থাকেন। কিন্তু গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তাদের মেয়র পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংক্ষুব্ধ প্রার্থী বা তার মনোনীত ব্যক্তিকে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে হয়। মামলার পরবর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে ট্রাইব্যুনাল সেই আবেদন নিষ্পত্তি করবে। যদি সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি রায়ে সন্তুষ্ট না হন, তবে তিনি ৩০ দিনের মধ্যে নির্বাচনী আপিল ট্রাইব্যুনালে যেতে পারবেন, যা ১২০ দিনের মধ্যে আপিলটি নিষ্পত্তি করবে।
অনিয়ম, দুর্নীতি ও অগ্রহণযোগ্যতার অভিযোগে ডিএসসিসি নির্বাচন ও ফলাফল বাতিলের জন্য ২০২০ সালের ৩ মার্চ মামলা করেন মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন। মামলায় তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা, রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবদুল বাতেন এবং দক্ষিণ সিটির মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসসহ মোট আটজনকে বিবাদী করা হয়।
এদিকে, গত বছরের ১ অক্টোবর ২০২১ সালে অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনকে বিজয়ী ঘোষণা করেছে আদালত। ওইদিন নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল এবং যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ খাইরুল আমীনের আদালত এ রায় দেন।
এই ঘটনাগুলো বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করছে, যেখানে নির্বাচনী আইনের প্রতি শ্রদ্ধা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধারের জন্য লড়াই চলছে।