আদালতের রুলে লুট হওয়া পাথর ফেরত ও দোষীদের তালিকা দাখিলের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হলো ঘটনাস্থল ও পটভূমি সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ, যাকে “সাদা সোনার দেশ” নামে অভিহিত করা হয়, বাংলাদেশের শীর্ষ পর্যটনস্থল হিসাবে পরিচিত। এখানকার ধলাই নদীতে প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট সাদা পাথরের স্তূপ প্রায় পাঁচ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত, যা স্থানীয়দের মতে “প্রকৃতির অনবদ্য ক্যানভাস” 2। কিন্তু গত বছরের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর থেকে এই সম্পদ ব্যাপক হারে লুট হতে শুরু করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একসময় রাতের আঁধারে চুরি হলেও এখন দিনদুপুরে কোটি টাকার পাথর প্রশাসনের সামনেই ট্রাক ও নৌকায় করে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে । হাইকোর্টের জরুরি হস্তক্ষেপ বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) বিচারপতি কাজী জিনাত হক ও বিচারপতি আইনুন নাহার সিদ্দিকার বেঞ্চ দুটি ঐতিহাসিক নির্দেশনা দেন: লুট হওয়া সমস্ত পাথর ৭ দিনের মধ্যে পূর্বস্থানে ফেরত ফেলতে হবে। পাথর লুটকারীদের তালিকা আদালতে দাখিল করতে হবে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা ও স্থানীয় ক্ষোভ গণমাধ্যমের ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, নৌকা ও গাড়িতে করে প্রকাশ্যে পাথর পরিবহনের দৃশ্য 2। স্থানীয় সাংবাদিক মাহবুবুর রহমান রিপনের মতে, “প্রশাসনের ভীতিই এই লুটের মূল কারণ” 2। বাসিন্দারা আরও উল্লেখ করেন, সপ্তাহে মাত্র একদিন অভিযান চালিয়ে বাকি ছয়দিন লুটপাট হতে দেওয়া হয়। এতে করে পাথর কেনাবেচার মূল নেটওয়ার্ক অক্ষত থেকে যাচ্ছে । পরিবেশগত বিপর্যয়ের শঙ্কা পরিবেশবিদ ইকবাল হাবিব সতর্ক করে দিয়েছেন: এই পাথর ধলাই নদীর পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে এবং প্রাকৃতিকভাবে পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা বজায় রাখে। এগুলি অপসারণের ফলে নদীর গঠন পরিবর্তন, বন্যা ও পানির গুণগত মান হ্রাসের মতো ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে 2। পর্যটন সৌন্দর্যের বিলুপ্তি স্থানীয় স্কুল শিক্ষক শাফকাত জামিলের বর্ণনায়, ভোলাগঞ্জ ছিল “কাশ্মীরের মতো স্বর্গরাজ্য”—দুইপাশে সাদা পাথরের চাদর, মাঝে নীলজলের ধলাই নদী আর পাহাড়ের উপর মেঘের আচ্ছাদন 2। কিন্তু বর্তমানে লুটের কারণে এই দৃশ্য বিলীন হওয়ার পথে। অভিযানে অংশীদার গত বুধবার দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ভোলাগঞ্জে অভিযান চালায় । তবে তাদের তদন্তের ফলাফল এখনও প্রকাশিত হয়নি। আগামী রোববার (১৭ আগস্ট) হাইকোর্টের দ্বিতীয় শুনানিতে এই লুটের পেছনের সিন্ডিকেট ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে আরও তথ্য উঠে আসবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে । “প্রকৃতির এই ক্যানভাস শুধু পাথর নয়, আমাদের অস্তিত্বের অংশ। প্রশাসন যদি রক্ষা না করে, আদালতই শেষ ভরসা,” — স্থানীয় পরিবেশকর্মীর বক্তব্য । এই ঘটনা শুধু সম্পদ লুটের প্রশ্ন নয়, বরং প্রাকৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতার একটি মাপকাঠি হয়ে উঠেছে। ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর এখন দেশের পরিবেশ-সচেতনতার প্রতীক।