বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এক ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলকে নিজেদের অপকর্ম আড়াল করতে বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালানোর অভিযোগ এনেছেন। বুধবার গুলশানে দলীয় চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “সেই দল নাটকীয় কৌশল ও মাস্টারপ্ল্যানের মাধ্যমে আমাদের ভাবমূর্তি ধ্বংস করতে চায়। কিন্তু জনগণ কখনো এটা গ্রহণ করবে না।” রিজভীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, বিরোধী দলটি বানোয়াট গল্প নির্মাণ করে বিএনপিকে লক্ষ্য করছে। তিনি এ প্রসঙ্গে তীব্র ভাষায় মন্তব্য করেন, “যারা রাজনৈতিক অপসংস্কৃতিতে নিমজ্জিত এবং ন্যূনতম সভ্যতা বজায় রাখতে পারেন না, কেবল তারাই এমন হীন প্রচারণা চালাতে পারে।” সাম্প্রতিক চট্টগ্রামের এক চিকিৎসকের ভাইরাল ঘটনার স্পষ্টীকরণও দেন তিনি। তাঁর দাবি, “চাঁদাবাজির কোনো ঘটনা ঘটেনি। ওই চিকিৎসক নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণ করায় কর্তৃপক্ষের শাস্তির মুখে পড়েন। পরে তিনি নাকে রং মেখে লাইভে এসে বিএনপির বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচার চালিয়েছেন। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি গোষ্ঠী বিশেষ এজেন্ডা বাস্তবায়নে এ কাজ করছে।” সংগঠনের শুদ্ধি অভিযানের কথাও উল্লেখ করেন বিএনপির এই নেতা। তাঁর ভাষ্যে, “বিএনপি বা এর অঙ্গসংগঠনের নামে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড—চাঁদাবাজি, জবরদখল কিংবা অনিয়ম—ধরা পড়লেই সংশ্লিষ্টদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন বহিষ্কার, পদস্থগিত বা আজীবন নিষেধাজ্ঞার মতো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।” প্রশাসনিক পুনর্গঠনে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতির প্রস্তাবের সমালোচনাও করেন রিজভী। তাঁর মতে, “পশ্চিম ইউরোপের সমাজ যে স্তরে পৌঁছেছে, বাংলাদেশ এখনো সে পর্যায়ে নেই। জনগণ এই ব্যবস্থার জন্য প্রস্তুত নয়। যারা পিআর চাপিয়ে দিতে চান, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে জটিলতা তৈরি করছেন।” তিনি ইঙ্গিত দেন, এ পদ্ধতি চালুর পেছনে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করার ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। রিজভীর এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া না এলেও, সংবাদ সম্মেলনের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ইস্যুতে তীব্র আলোচনা চলছে।