বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত শুক্রবার (১৫ আগস্ট ২০২৫) বিদেশে অবস্থিত সব কূটনৈতিক মিশন, দূতাবাস, হাইকমিশন, কনস্যুলেট এবং কূটনীতিকদের বাসভবন থেকে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ছবি সরিয়ে ফেলার মৌখিক নির্দেশনা জারি করেছে। তবে, এই নির্দেশনা কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি বা ই-মেইলের মাধ্যমে দেওয়া হয়নি; বরং ফোন কলের মাধ্যমে নির্দেশনা পৌঁছানো হয়েছে। এই নির্দেশনার ফলে বাংলাদেশের ৮২টি মিশনের মধ্যে বেশিরভাগই ইতোমধ্যে রাষ্ট্রপতির ছবি সরিয়ে ফেলেছে, এবং অনেক মিশন গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকেই ‘জিরো পোর্ট্রেট’ নীতি অনুসরণ করছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করলেও, বিদেশে দায়িত্বরত কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সরিয়ে ফেলা হয়। এরপর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে রাষ্ট্রপতির ছবি না থাকার ‘ইঙ্গিত’ বুঝে অনেক মিশন নিজ উদ্যোগে ছবি সরিয়ে নেয়। লন্ডনের বাংলাদেশ হাইকমিশনে শুক্রবার রাতেই হাইকমিশনারের কার্যালয়ে থাকা রাষ্ট্রপতির ছবি সরানো হয়। শ্রীলঙ্কার কলম্বো দূতাবাসের এক কর্মকর্তা জানান, তারা ৫ আগস্টের পরই শেখ হাসিনা, শেখ মুজিবুর রহমান এবং রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের ছবি সরিয়ে ফেলেছিলেন, তাই নতুন করে কোনো ছবি সরানোর প্রয়োজন হয়নি। ইরানের তেহরান দূতাবাসে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণের পর রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার ছবি রাষ্ট্রদূতের কার্যালয়ে টাঙানো হয়েছিল। কিন্তু শুক্রবারের নির্দেশনার পর সেখান থেকেও উভয় ছবি সরিয়ে ফেলা হয়। ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার অন্তত পাঁচটি দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, মৌখিক নির্দেশনা পেয়ে তারা রাষ্ট্রপতির ছবি সরিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, ৫ আগস্টের পর থেকে ৫০টির বেশি মিশন থেকে রাষ্ট্রপতির ছবি সরানো হয়েছে। এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন তদারকির জন্য প্রতিটি অঞ্চলের জন্য একজন সিনিয়র কূটনীতিককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যিনি নিশ্চিত করছেন যে সব মিশন এই ‘জিরো পোর্ট্রেট’ নীতি মেনে চলছে। একজন কূটনীতিকের মতে, সংবিধানে শুধুমাত্র বঙ্গবন্ধুর ছবি প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তবে রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রীর ছবি প্রদর্শন কেবল ‘ঐতিহ্য’। এই নীতিমালার পরিবর্তনকে অনেকে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত করে দেখছেন, যদিও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। এই পদক্ষেপ নির্বাচন বা রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয় বলে পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানিয়েছেন, তবে এটি জনমনে নানা প্রশ্ন তুলেছে।