উত্তর ইসরায়েল লক্ষ্য করে হিজবুল্লাহ বৃহস্পতিবার ভোরে রকেট হামলা চালিয়েছে, যা ইসরায়েলের সশস্ত্র বাহিনীর অব্যাহত যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের প্রতিবাদ হিসেবে সংগঠিত হয়েছে। ইরানপন্থি এই সশস্ত্র গোষ্ঠী এই হামলার বিষয়টি টেলিগ্রামে একটি বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে এবং জানিয়েছে, ইসরায়েলি-মার্কিন আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তাদের পাল্টা জবাব অব্যাহত থাকবে। এর আগে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল, লেবানন থেকে ছোড়া একটি রকেট আকাশেই ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ইসরায়েল লেবাননের রাজধানী বৈরুতসহ বিভিন্ন অঞ্চলে মাত্র ১০ মিনিটেরও কম সময়ে প্রায় ১০০টি স্থানে বিমান হামলা চালিয়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটিয়েছে। এই হামলায় নারী ও শিশুসহ ২৫৪ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মধ্যে গভীর উদ্বেগের সঞ্চার করেছে। হিজবুল্লাহ এই হামলাকে ‘গুরুতর যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, এ ধরনের আঘাত তাদের প্রতিরোধ আরও জোরদার করবে। সংগঠনটির ভাষায়, নিরীহ মানুষের ওপর এই নৃশংস হামলা তাদের সংগ্রামের সংকল্পকে আরও দৃঢ় করেছে। ইরানও এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। দেশটির কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে লেবাননকে চুক্তির বাইরে রাখার দাবি সম্পূর্ণ অসত্য বলে উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি, লেবাননে এই হামলার জেরে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা অঞ্চলীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও একধাপ উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে। বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যের সংকট আরো জটিল রূপ ধারণ করেছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।