লেবাননের রাজধানী বৈরুতসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর এক পশ্চাদ্ধাবনহীন হামলা শুরু হয়েছে, যা মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে অন্তত ১০০টির বেশি বিমান হামলা চালিয়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি করেছে। এই বেদনাদায়ক অভিযানে নারী ও শিশুসহ ২৫৪ জন নিহত এবং এক হাজারেরও বেশি আহত হয়েছে, যা দেশটির মানুষের ওপর গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। এমন নিঃশর্ত ও ব্যাপক হানার প্রেক্ষিতে লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার এটিকে ‘পূর্ণমাত্রার যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এই আঘাতের প্রভাবে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ ঘোষণা করেছে, যা সারা বিশ্বের জন্য একটি বড় নিরাপত্তা সংকেত। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির চুক্তি মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে সম্পন্ন হয়েছে, তবুও ইসরায়েলের এই আক্রমণ শান্তিকরণের প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়েছে। একই সঙ্গে, ইরানের কিছু শহরে বিস্ফোরণ এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যা যুদ্ধবিরতি চুক্তির চরম লঙ্ঘন হিসেবে তেহরান দাবী করেছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার আক্রমণাত্মক অবস্থান পুনরায় জোর দিয়ে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি থাকলেও হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে আক্রমণ থামানো হবে না। তবে দেশের ভিতরে তার এই অবস্থানকে ঘিরে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্ক চলছে। বিরোধীদলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদ এই যুদ্ধবিরতিকে ‘কূটনৈতিক বিপর্যয়’ হিসেবে আখ্যায়িত করে নেতানিয়াহুর কৌশলগত ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করেছেন। বর্তমান পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ও অস্থিরতার নতুন দফা নিয়ে আসছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। এই সংঘাত থেকে শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথে বাধাস্বরূপ এই নতুন হানার প্রভাব কতদূর বিস্তার লাভ করবে, সেটাই এখন বিশেষ নজরের দাবি রাখে।