তিতাস গ্যাসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ভুয়া আইডি ব্যবহার করে গ্যাসের অবৈধ সংযোগ দেওয়ার একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। এই চক্রটি প্রতিটি সংযোগের জন্য ২ থেকে ৩ লাখ টাকা নিচ্ছে, আর মাসিক চুলা প্রতি ১,৫০০ থেকে ২,০০০ টাকা আদায় করছে। বিভিন্ন কলকারখানায় বৈধ সংযোগের সঙ্গে অবৈধ সংযোগ দিয়ে তারা মাসে ৪ লাখ থেকে কোটি টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিচ্ছে। অবৈধভাবে নিম্নমানের পাইপ স্থাপন, রাইজার ও রেগুলেটর ব্যবহারের কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। সরকারি কাগজে গ্যাস চুরিকে “সিস্টেম লস” হিসেবে দেখানো হয়। গত অর্থবছরে এজন্য প্রায় ৪,০০০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে, আর চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে সোয়া ৩,০০০ কোটি টাকা। মানিকগঞ্জের ধামরাইয়ের এক শিল্প মালিক জানান, তিতাস থেকে তার কারখানার জন্য নতুন গ্যাস সংযোগের আবেদন করেও যখন কিছু হয় না, তখন তিতাসের কিছু ঠিকাদার ২ কোটি টাকার বিনিময়ে গ্যাস সংযোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেন। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান স্বীকার করেন যে তিতাস গ্যাসের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী অবৈধ সংযোগের সাথে জড়িত। সাভার ও আশুলিয়ায় অবৈধ গ্যাস সংযোগের ছড়াছড়ি। আশুলিয়ার বঙ্গবন্ধু রোডের সৈয়দবাড়ি এলাকায় আলাউদ্দিন নামে এক ব্যক্তি অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে মাসোহারা আদায় করছে। তার নিয়ন্ত্রণে থাকা ৭-৮টি বাড়িতে প্রায় ৭০-৮০টি চুলা অবৈধভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জে ২০১৯ সালে আবাসিক ও বাণিজ্যিক সংযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই অবৈধ গ্যাস সংযোগের ব্যবসা জোরদার হয়েছে। গ্যাস অফিসের বিভিন্ন অসাধু কর্মকর্তাকে হাত করে দালালরা প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় প্রকাশ্যে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিচ্ছে। রূপগঞ্জে অবৈধ গ্যাস সংযোগের ৯৫ ভাগই নিম্নমানের পাইপ ও সামগ্রী দিয়ে করা হয়েছে। এখানে অভিযান চালালে তিতাস কর্মীরা হামলার শিকার হচ্ছেন। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকায় দালাল চক্রের মাধ্যমে তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে অবৈধ সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান বলেন, অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার হার অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি, কিন্তু এই বিশাল পরিমাণ অবৈধ লাইন বিচ্ছিন্ন করার মতো লোকবল তিতাসের নেই। গ্যাস চুরির এই অবৈধ বাণিজ্য বন্ধ করতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে কঠোর পদক্ষেপ